• ৪ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কমরেড অমল সেন লাল সালাম

0

আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২০ এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা পুরুষ তে-ভাগা আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। কমরেড অমল সেন বৃটিশ ভারতে ১৯১৪ সনে বর্তমানের নড়াইল জেলার আফরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। নবম শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হয়ে ‘অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৩৩ সনে খুলনার বিএল কলেজে রসায়ন শাস্ত্রে পড়া অবস্থায় অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩৩ সনে এই অঞ্চলের জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর পিতার জমিদারির বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন তাকে আরো পরিচিত করে তোলে। ধারাবাহিকভাবেই ঐ অঞ্চলে আন্দোলন চলতে থাকে।

১৯৩৫ সনে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৬ এর ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তী পুরুষে পরিচিতি লাভ করেন সকলের ‘বাবুদা’ হিসেবে। ১৯৪৮ সনে যশোর পার্টির সম্পাদক নিযুক্ত হন। সদ্য ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানী মুসলিম লীগ সরকারের রোষাণলে পড়েন এবং ১৯৫৬ সন পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। দুই বছর বাইরে থাকলেও আবারো ১৯৫৮ সনে গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৯ সন পর্যন্ত জেলে আটক থাকেন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি লাভ করলেও আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে জনগণ জেল ভেঙ্গে তাকে মুক্ত করেন। আজীবন সংগ্রামী, অকৃতদার, নিঃস্বার্থ বিপ্লবী কমরেড অমল সেন ১৯৭১ এ জেল মুক্ত হয়ে ভারতে চলে যান এবং তখন বিভ্রান্ত বাম আন্দোলনের কর্মীদের সংগঠিত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে ‘খোলা চিঠি’ দিয়ে আহ্বান জানান। ভারতে বসেই এদেশের বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালান এবং কমিউনিস্ট ‘বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি’ গড়ে তোলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনে চীন-মস্কো ধারার বিপরীতে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড অমল সেনের হাতে গড়া লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পরবর্তীতে ওয়ার্কার্স পার্টি নাম ধারণ করে। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। কমরেড অমল সেন ২০০৩ সনে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে কমরেড অমল সেন তার সময়ে বাম-ডান বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট কর্মীদের সমাজ বিপ্লবের দিশা দেখিয়েছেন তাঁর ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’ নামক চিন্তা সূত্র দিয়ে। সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের পূর্বেই ১৯৭৭ সনে তার মূল্যবান চিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন ‘কমিউনিস্ট বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমস্যা প্রসঙ্গে’ যা পরবর্তীতে সেই চিন্তার অনেক যথার্থতাও খুঁজে পাওয়া যায়। কমিউনিস্ট পার্টি এবং জীবনবোধের অনুশীলনে ‘কমিউনিস্ট জীবন ও আচরণ রীতি প্রসঙ্গে’ বইটি এদেশের কমিউনিস্টদের জন্য একটি অবশ্য পাঠ্যপুস্তক। ‘নড়াইল তে-ভাগা আন্দোলনে সমীক্ষা’ নামক প্রবন্ধেও তেভাগা আন্দোলনের মর্মবস্তু তুলে ধরেছেন। কমরেড অমল সেনের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে এদেশের বিপ্লবী আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিতে হবে।

আজ ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে সেই প্রত্যয়- শপথ ঘোষিত হোক।

কমরেড অমল সেন লাল সালাম।

Share.

Leave A Reply