• ২২ অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে অংশীদার হতে আপত্তি জানিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি

0

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আপত্তি জানিয়েছে। আজ ১৬ অক্টোবর ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর এতদ্সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অস্বীকার করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী স্টিফেন বিগ্যান সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় স্পষ্ট করেই বলেছেন তিনি তাদের সাথে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের অংশীদারীত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশকে আইপিএস-এর গুরুত্বপূর্ন অংশীদার বলেও অভহিত করেছেন। এবং এটা দিবালোকের মত স্পষ্টই যে আইপিএস-এর জন্য সমার্থন আদায় করার জন্যই তার এই সফর ছিল। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয় ওবামা প্রশাসনের সময়কালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয়-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে এশিয়া- প্যাসিফিক অঞ্চল বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং তাতে এই অঞ্চলের দেশগুলিকে সংশ্লিষ্ট করার নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। সম্প্রতি সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্ট পরিস্থিতি, ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ, কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক জোট গড়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হয়েছে এবং কোভিড-১৯ কালে ট্রাম্প প্রশাসন অনুসৃত নীতিতে এর উপর জোর দিচ্ছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে সফর করা হচ্ছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের সিয়েটো চুক্তিতে যোগদান পরিণাম ফল এদেশের মানুষ দেখেছে। এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতির মধ্য দিয়েই এদেশের মানুষ সিয়েটো-সেন্টো চুক্তির অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল। এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু জোট নিরপেক্ষতার নীতিই কেবল গ্রহণ করেন নাই, তার নেতাও পরিণত হয়েছিলেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অন্য দেশের চোখে দিয়ে দেখেন না বলে যে বোকাবুঝ দেয়া হয়েছে তার কোন অবকাশ নাই। পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন ভূমিকা বাংলাদেশের মূলনীতির অংশ এবং সংবিধান অনুসারেই বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির নামে এই অঞ্চলে যে সামরিক জোট গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে যোগ দিতে পারে না। আর সেটা হলে তা হবে বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকারের ঘোষিত নীতির বিরোধী।

Share.

Leave A Reply