• ৪ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মওলানা ভাসানী সমস্ত জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরী করেছিলেন বঙ্গবন্ধু সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক রূপ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন —রাশেদ খান মেনন

0

“মওলানা ভাসানী তার সমস্ত জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরী করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক রূপ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে গছেন। পত্রিকার পাতায় মওলানা ভাসানীর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুল্লেখ অথবা দায়সারা ভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা ‘প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করে তাকে খাটো করে দেখবার অবকাশ নাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রভাবকের, ক্ষেত্র বিশেষে নির্নায়কের। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা যায় না।”
আজ ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি একথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, ছাত্র জীবন শেষে মওলানা ভাসানী তাকে হাত ধরে কৃষক আন্দোলনে নামিয়েছিলেন। আর সেটাই তাকে তৃণমূলের মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিল।
আলোচনায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, মওলানা ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চ করেছিলেন বলেই গঙ্গার পানি বন্টন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পশ্চিম বঙ্গের বামফ্রন্টের সহায়তায় আন্তর্জাতিক গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গত নয় বছরে তিস্তাচুক্তি সম্পাদিত হতে পারলনা। তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে তিস্তার পানির ভাগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মওলানা ভাসানীর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আজীবন শোষিত মানুষের পক্ষে লড়াই করে গেছেন। বিশেষ করে তিনি কৃষকের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন বিশ^ নেতা তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছেন সেই সকল দেশের নেতাদের সাথে বিশ^ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। তিনি যেমন কৃষকের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন তেমনি শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্যেও লড়াই করে গেছেন। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী শুধু মাত্র এ দেশের কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে থেমে থাকেননি ভাষা আন্দোলন ও এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সভায় অধ্যাপক মেসবাহ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, মওলানা ভাসানী কৃষকের অধিকার আদায়ের লড়াইকে জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দান করে গেছেন। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, জাতীয়মুক্তি সংগ্রামসহ এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি আজীবন জনতার মিছিলে অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছেন।
সভায় অন্যতম আলোচক ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু যান্ত্রিক অসুবিধার কারণে তার বক্তব্য বলতে না পারলেও উপস্থিত হয়েছিলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমেরড অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড নজরুল ইসলাম হক্কানী, কমরেড এনামুল হক এমরান, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড তপন দত্ত চৌধুরী, কমরেড শরীফ শমসির, কমরেড এ্যাড. নজরুল ইসলাম, কমরেড হবিবর রহমান, কমরেড করম আলী, কমরেড এ্যাড, কাজী মাসুদ, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড হাফিস সরকার, কমরেড রফিকুল ইসলাম, কমরেড কিশোর রায়, কমরেড গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী, কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার, কমরেড কাজী মাহমুদুল হক সেনা প্রমুখ।
সকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরীর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি টাঙ্গাইল জেলার পক্ষ থেকে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করে। আলোচনার শুরুতে বিশিষ্ট গণসংগিত শিল্পী ফকির আলমগীর মওলানা ভাসানীকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

Share.

Leave A Reply