• ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সর্বজনীন পেনশন স্কীমে খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য জমাবিহীন পেনশন প্রাপ্তির সুযোগ দিতে হবে—রাশেদ খান মেনন

0

“সর্বজনীন পেনশন স্কীমে কন্ট্রিবিউটরী বিধানের পাশাপাশি খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী এবং অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকদের জন্য জমাবিহীন পেনশন (নন-কন্ট্রিবিউটরী) প্রাপ্তির সুযোগ রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সংগ্রামী সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি এ কথা বলেন।”
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন যাবত খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের পেনশন প্রদানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সরকার ইতোমধ্যে ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের পেনশন প্রদানের জন্য ‘ইউনিভার্সাল পেনশন স্কীম’ নামক একটি আইন সংসদে উত্থাপন করেছে। এই স্কীমে খেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য জমাবিহীন (নন-কন্ট্রিবিউটরী) পেনশন ব্যবস্থা চালু দাবি জানান।
আজ ২৬ নভেম্বর ২০২২ শনিবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গোলটেবিলে ধারণাপত্র উত্থাপন করেন-খেতমজুর ইউনিয়নের কার্য্যনিবার্হী সভাপতি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি। প্যানেল আলোচক হিসাবে আলোনায় অংশ গ্রহণ করেন- অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. বিনায়ক সেন, অধ্যাপক এম এম আকাশ, সমাজকর্মী জনাব শামসুল হুদা, বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির সভাপতি ডাঃ ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, খেতমজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা এড. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
গোলটেবিলে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নীলু। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬২ ভাগ ভূমিহীন। এরা পরের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রান্তিক চাষীরাও নিজেদের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে থাকে। তবে এই কাজ মৌসুমী। ফলে খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবীরা ভ্যান চালানো, ইট-ভাঁটা, ধানের চাতালসহ গ্রামীণ জীবনযাত্রায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে। এই ভূমিহীনদের এক বড় অংশ যারা শহরের এসে এ ধরণের অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত হয়। আবার তারা ধান কাটা, রোয়া বিভিন্ন সময়ে খেতমজুর হিসাবে কাজ করতে গ্রামে ফিরে আসেন। এমনকি আনুষ্ঠানিক খাতের একাংশ শ্রমিকও একই কাজ করেন। এদের যদি বাদও দেওয়া হয় তা’হলেও খেতমজুর বা কৃষি শ্রমিকদের সংখ্যা বিপুলই দাড়াবে। সম্প্রতি সময়ে এই খেতমজুর বা কৃষি শ্রমিকদের একটা বড় অংশ নারী।
এখনও জনসংখ্যার ২২ ভাগ দারিদ্রসীমার নীচে। আর কোভিডের পরে প্রণীত বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা দ্বিগুনে উপনীত হয়েছে। সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি ও বিভিন্ন ধরণের অর্থনৈতিক সংকট এই দারিদ্রের রূপকে আরও প্রকট করে তুলবে। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে অর্থনীতির সংকোচন। এই অবস্থায় কাজ পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠবে।
মৌসুমী কাজ হওয়ার ফলে এই খেতমজুরদের বাৎসরিক আয়ের কোন নিশ্চয়তা নেই। মৌসুমে কাজ থেকে তারা যে আয় করে তার থেকেও বিশেষ কোন সঞ্চয় তারা করতে পারে না। মৌসুমী এই আয়ের যে উদ্বৃত্ত থাকে তা মূলত: মহাজন ও এনজিওর কাছ থেকে ঋণ পরিশোধেই শেষ হয়ে যায়।
খেতমজুর ও শ্রমজীবীদের তাই পেনশন তহবিলে নিয়মিত চাঁদাদান প্রায় অসম্ভব। যদি কেউ শুরুও করতে পারে তা’হলে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবে না। ফলে সংবিধানের বিধান অনুসারে ইউনিভার্সাল পেনশন স্কীমের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা কার্যকর হবে না। ঐ পেনশন এ সকল জনগোষ্ঠীর ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে।
এই অবস্থায় ঐ পেনশন স্কীমকে খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য জমাবিহীন বা নন-কন্ট্রিবিউটরি করতে হবে। তাদের এই পেনশন স্কীমের আওতায় আনতে খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বজনীন পেনশন স্কীম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেবেন যাতে সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ব্যবস্থায় খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীরা যুক্ত হতে পারে। এই আলোচনা সামগ্রিক বিষয়ে পথনির্দেশ করবে বলে আশা করা যায়।

Share.